মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

সিংড়া জাতীয় উদ্যান- এক বর্ণময় সবুজের হাতছানি

 

 

 

সিংড়া জাতীয় উদ্যান"

 

ঐতিহ্যবাহী সিংড়া শালবন দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নে অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক শালবন। এটি ৮৫৫ একর ভূমি নিয়ে পরিবেষ্টিত একটি অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর পর্যটন এলাকা যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য যে কোন পর্যটককে আকর্ষন করে তীব্রভাবে। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এই পর্যটন এলাকার সমৃদ্ধ জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষন ও পর্যটকদের আকর্ষনীয় চিত্তবিনোদনের জন্য ২০১০ ইং সালে একে ““সিংড়া জাতীয় উদ্যান””হিসেবে ঘোষনা করে। যুগযুগ ধরে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা এই শালবন তথা জাতীয় উদ্যানটি এখন সমগ্র উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য একটি আকর্ষনীয় পর্যটন স্পট। সারি সারি আকাশ ছোঁয়া দীর্ঘ সুউচ্চ শাল গাছের সবুজ আচ্ছাদন পর্যটকদের দুরথেকে যেন হাতছানি দিয়ে ডেকে যায় যা উপেক্ষা করা যে কোন পর্যটকের জন্য কষ্টসাধ্য। সবুজের বুক চিরে তার মাঝ দিয়ে বয়ে চলা পূর্ননভা নদী এই জাতীয় উদ্যানটির সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে দিয়েছে আরও শতগুন। পূর্ননভা নদীর কুলকুল ধ্বনি এবং অবিরাম বয়ে চলা শীতল জলধারা যেকোন ক্লান্ত, শ্রান্ত পর্যটকমনকে শীতল করে দেয় মূহুর্তেই। নদীর তীর ধরে বনের মধ্য কিছুদুর গেলেই চোখে পড়বে আদিবাসী সাঁওতাল পুরুষ-রমনীদের চাঁই অথবা জাল দিয়ে নদীর ছোট ছোট মাছ ধরার চমৎকার দৃশ্য। এটি হতে পারে পর্যটকদের জন্য একটি অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক দৃশ্য। বনের অভ্যন্তরে সিংড়া মৌজায় রয়েছে একটি বহুপুরাতন খ্রীষ্টান মিশন। এটি প্রতিষ্ঠা করেন ফাদার এনজো কর্বা নামের একজন খ্রীষ্টান পাদ্রী যিনি ইতালীয় নাগরিক ছিলেন। তিনি খ্রীষ্টধর্ম প্রচারের উদ্দ্যেশ্যে বাংলাদেশে আগমন করেন এবং সম্ভবত ১৯৩০ সালের দিকে এদেশে এসে এই স্থানে এই মিশনটি প্রতিষ্ঠা করেন। মৃত্যুর পর মিশনের সামনে তাকে সমাহিত করা হয়। এখানে ধ্যান করার জন্য চমৎকার বাংলো বাড়ী রয়েছে এবং প্রতি সপ্তাহে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এই মিশনটি ও এখন পর্যটকদের আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু। বনে অভ্যন্তরে রয়েছে একটি বড় পুকুর যা কালের সাক্ষী হয়ে ও তৎকালীন জমিদারদের স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে আজও টিকে আছে। এছাড়াও বনের মধ্যে রয়েছে বড় বড় উঁইপোকার মাটি দিয়ে তৈরী ঢিবি, লম্বা লম্বা গিলা লতা যা দেখে আপনারও নিজেকে ছোটকালে দেখা “টারজন”হয়ে এক গাছ হতে আরেক গাছে যেতে ইচ্ছে করবে। আপনি যদি সৌন্দর্য্য পিপাসু, প্রকৃতি প্রেমী কিংবা প্রাচীন নিদর্শন দেখতে ভালবাসেন এবং সেই সাথে গ্রামীন আবহে অত্যন্ত কাছ থেকে আদীবাসীদের জীবন যাত্রা দেখতে চান তাহলে আর দেরী না করে ব্যাগ গুছিয়ে আজই বের হয়ে পড়তে পারেন সিংড়া জাতীয় উদ্যানের উদ্দেশ্যে। যে স্থানটি প্রতিবছর শীত মৌসুমে হাজার হাজার পর্যটকদের পদচারনায় মুখর হয়ে থাকে। এখানে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকেরা শিক্ষা সফরে আসে, বিভিন্ন বানিজ্যিক ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বনভোজন, পারিবারিক ট্যুর ও নব-দম্পতিদের ঘুরতে আসা উল্লেখযোগ্য। তাই পরিকল্পনা করে বের হয়ে পড়তে পারেন আর আপনিও হতে পারেন সেই সৌভাগ্যবান হাজার হাজার পর্যটকদের একজন। পরিকল্পনা করার সময় অবশ্যই মনে রাখবেন আপনি যদি বনভোজন উৎসব করতে চান তাহলে আপনাকে আসতে হবে শীতকালে। আপনি যদি বনের সবুজময় ভরা যৌবন ও নদীর উচ্চলতা দেখতে চান তাহলে আপনাকে আসতে হবে ঘোর বর্ষাকালে।